সাউথের ছবিতে অভিনয় করতে চাই: সোহিনী গুহ রায়

মাত্র তিন বছর বয়স থেকে নাচ শিখছেন।নাচের প্রতি তার এতটাই ভালোবাসা ও নেশা যে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবার বছরে তাকে বাড়ি থেকে নাচ শেখানো ছাড়িয়ে দেওয়া হয়,যেহেতু নাচের প্রতি তার মনোযোগটা বেশি ছিল।মাধুরী দীক্ষিতের অসম্ভব ভক্ত তিনি।মাধুরীর নাচের প্রতিটা স্টেপ থেকে শুরু করে তার উপস্থাপনা কথা বলা তিনি সবকিছুই ফলো করতেন।সেই ছোট্ট মেয়েটি আজ টেলিভিশন জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী সোহিনী গুহ রায়…থুড়ি আপনাদের সকলের প্রিয় সকলের ভালোবাসার টায়রা

কোচবিহারের মেয়ে সোহিনীর অভিনয় জার্নিটা শুরু হয়েছিল বেশ ইন্টারেস্টিং ভাবে কোচবিহারের সেন্ট মেরিজ হাই স্কুল থেকে স্কুলের পাঠ চুকিয়ে পড়াশুনার জন্য চলে আসেন কলকাতা শহরে।লরেটো কলেজ থেকে স্নাতক করার পর অ্যামিটি ইউনিভার্সিটি থেকে এম বি এ করেন।তারপরেই তিনি চাকরি করতে শুরু করেন এইচ আর হিসেবে।জীবন চলছিল গতানুগতিক ভাবেই।চাকরি সূত্রে থাকছিলেন কলকাতাতেই।এই সময়েই সোহিনীর এক বন্ধু একটা শর্টফিল্ম করছিলেন আর সোহিনীকেই বেছে নিলেন তার শর্টফিল্মের প্রধান চরিত্রে।সোহিনী যেহেতু ছোট থেকে নাচ করতেন আর ভরতনাট্যম যেহেতু তার নাচের বিষয় তাই নাচের এক্সপ্রেশন তো অভিনয়ের মাধ্যমেই প্রকাশ করতে হতো তাই অভিনয়টা তার মধ্যেই ছিল।এদিকে বাড়িতেও তার একটা অভিনয়ের পরিবেশ ছিল।বাবা জয়ন্তু গুহ রায় চাকরীর পাশাপাশি কোচবিহারে নিয়মিত যাত্রা করতেন।সোহিনীর অভিনীত প্রথম শর্টফিল্ম খুব উচ্চ প্রশংসিত হয়।সুযোগ আসে জনপ্রিয় নন ফিকশন ‘চকাচক কমেডি শো’ তে।এই শো-এর শুটিং করার সময়ই অভিনয়ের প্রতি তার ভালোবাসাটা আরো বেড়ে যায়।এরপর তিনি বিভিন্ন জায়গায় অভিনয়ের জন্য অডিশন দিতে শুরু করেন।অডিশনের মাধ্যমেই সুযোগ পেয়ে যান কালারস বাংলায় ‘রেশম ঝাঁপি’ ধারাবাহিকে।’রেশম ঝাঁপি’র নন্দিনী চরিত্রের মাধ্যমে সোহিনী হয়ে ওঠেন আপামর বাঙালির ঘরের মেয়ে।এরমাঝেই চাকরিটাও ছেড়ে দিলেন।বাড়িতে যেহেতু সাংস্কৃতিক পরিবেশ ছিলই তাই বাড়ি থেকে সাপোর্টটা প্রথম থেকেই পেয়েছেন।


এরপরই সোহিনী অভিনয় করলেন ‘ময়ূরপঙ্খী’ ধারাবাহিকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে।এখন তাকে দেখা যাচ্ছে স্টার জলসায় ‘গঙ্গারাম’ ধারাবাহিকে টায়রার চরিত্রে।টেলিভিশনের পর্দায় সোহিনীকে আমরা যেরকম দেখি টায়রার চরিত্রে বাস্তবে সোহিনী একদম অন্যরকম।পর্দার চরিত্রের একদম বিপরীত।অভিনেত্রী জানালেন,”স্নেহাশিস দা যখন আমাকে এই চরিত্রটিতে বাছেন সেটা ছিল আমার কাছে খুব চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার।আমি বাস্তবে একদম টায়রার মতো নই।চরিত্রটা করতে আমি দারুন আনন্দ পাচ্ছি।আর টায়রাকে এত মানুষ ভালোবাসছেন ,গঙ্গারামকে ভালোবাসছেন তার জন্য দর্শকদের অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই।”

 

সোহিনীর প্রেমপর্ব ও বিয়েটাও বেশ ইন্টারেস্টিং।পূর্ব বর্ধমানের গুসকরার ছেলে কল্লোল চোধুরীর সঙ্গে সোহিনীর আলাপ সোহিনীর এক বান্ধবীর মাধ্যমে।আলাপ থেকে বন্ধুত্ব, প্রেম তারপর একেবারে ছাদনাতলায়।এই সমস্ত ঘটনাটাই ঘটে মাত্র তিনমাসের মধ্যেই।পেশায় নামি ব্যবসায়ী কল্লোল সোহিনীকে প্রোপোজ করেন সোহিনীর সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘আবার কাঞ্চনজঙ্ঘা’র সেট দার্জিলিং-এ।সোহিনী কথায় কথায় জানালেন,”রাজর্ষি দার(পরিচালক রাজর্ষি দে) ‘আবার কাঞ্চনজঙ্ঘা’ আমার কাছে খুব স্মৃতিমধুর হয়ে থাকবে।প্রথমত এই ছবি দিয়েই আমার বড়পর্দায় ডেবিউ।দ্বিতীয়ত সব মেয়েই চায় তার মনের মানুষ কবে তাকে প্রোপোজ করবে।কল্লোল আমাকে সেই প্রোপোজ টা করেছিল ‘আবার কাঞ্চনজঙ্ঘা’র সেট দার্জিলিং-এ।”


এখন অভিনেত্রী ঘোরতর একজন সংসারী মানুষও বটে।শুটিং-এর সময় বাদে অভিনেত্রী পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটান।সাক্ষাৎকার পর্ব শুরু হবার আগে অভিনেত্রী মুঠোফোনে বাড়িতে রান্নার মেনুর সমস্তকিছু বুঝিয়ে দিলেন রান্নার লোককে।

অভিনেত্রী সিনেমা,টেলিভিশন, ওয়েবসিরিজ সব প্লাটফর্মেই কাজ করতে চান।সুযোগ পেলে বলিউড ও সাউথেও কাজ করতে চান।সাউথ থেকে অভিনেত্রীর কাছে বহুবার সুযোগ এলেও টেলিভিশনের কন্টাক্টে থাকার জন্য যাওয়া হয়নি।অভিনেত্রী জানালেন,”আরেকটা ব্যাপার আমার মনে হয় তখন এখানে তো বাড়িতে থেকে শুটিং-এ যেতে পারি।এই ভেবে আর যাওয়া হয়না।তবে সাউথের ছবিতে কাজ করার খুব ইচ্ছে রয়েছে।”

টলিউডে তিনি সব ধরনের ছবিতে অভিনয় করতে চান।পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে অভিনয় করার ইচ্ছে আছে অভিনেত্রীর।

ব্যস্ততার মধ্যে নিজের বাড়ি কোচবিহার ও শ্বশুর বাড়ি পূর্ব বর্ধমান কতটা যাবার সময় পান জানতে চাইলে অভিনেত্রী বললেন,”আসলে মেগা ধারাবাহিকে তো প্রতিদিনই শুটিং থাকে।একটা দিন রবিবার ছুটি পাওয়া যায় ।তাই নিজের বাড়ি তেমন যাওয়া হয়ে ওঠে না।তবে শ্বশুরবাড়ি মাঝে মধ্যেই শনিবার রবিবার সময় বের করে যাওয়া হয়।”

সাক্ষাৎকার: রামিজ আলি আহমেদ

চিত্ৰগ্রাহক: বাবান মুখার্জী

ওয়ার্ডড্রোব ও স্টাইলিং: জিৎ সত্যা

রুপসজ্জা: সৌমেন সেনগুপ্ত

কেশসজ্জা: রণিতা চন্দ্র

সিনেমাটোগ্রাফার: শুভজিৎ ভৌমিক