“এখনও মনের মতো মানুষ পাইনি”:মালবিকা

 

তিনি ‘কলকাতা সুন্দরী’ হয়েছিলেন।যদিও কখনও ভাবেননি ‘কলকাতা সুন্দরী’ হবেন।বেলুড়ে থাকতেন,পড়তেন বাংলা মাধ্যমে,দুদিকে বেনুনি করে স্কুলে যেতেন।সেই মেয়েটিই অডিশন দিলেন।ভাগ্যবশত কলকাতা সুন্দরী হয়েও গেলেন।এটাই যখন বিশ্বাস হচ্ছিল নিজেরই তখনই ‘মিস্টার ফান্টুস’ ছবিতে টলিউড ইন্ডাস্ট্রির বেতাজ বাদশা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বোনের চরিত্রে সুযোগ চলে আসে।বুম্বাদার বোনের চরিত্র করবেন ,তার লিপে চারটে গান থাকবে সেটা তো তখন তার কাছে স্বপ্ন মনে হচ্ছিল।স্বপ্ন বাস্তব হল।তারপর তার আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।দীর্ঘ কেরিয়ারে কাজ করেছেন টলিউড,বলিউড,উড়িয়া,দক্ষিনি ছবিতে ।তিনি বলিউডের ‘প্রিটি গার্ল’ মালবিকা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

‘মিস্টার ফান্টুস’-এর পর তিনি অভিনয় করেন ‘কখনও বিদায় বোলো না’,’মিসটেক’,’কাটাকুটি’,
‘চোরাবালি’,’কাটমান্ডু’,’বৌদি ডট কম’,’মিস্টার ভাদুড়ি’,’সাদা ক্যানভাস’,’টোপ’ সহ বহু বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছেন।কমার্শিয়াল ও আর্ট দুটো ঘরানার ছবিতেই জমিয়ে অভিনয় করেছেন মালবিকা।

 


শুধু অভিনয় নয় মালবিকা গায়িকা হিসাবেও বেশ সুনাম অর্জন করেছেন।হিন্দিতে গাওয়া তার গান ‘কিল কারদা’ গানটি দারুন হিট করে।এটিই প্রথম তার গাওয়া মিউজিও ভিডিও।মিউজিক ভিডিয়োটি কোরিওগ্রাফি করেন গণেশ আচারিয়া।৬৩তম ফিল্ম ফেয়ার মঞ্চে তিনি এই গানটি পারফর্ম করে বলিউডের তামাম অভিনেতা অভিনেত্রীদের মন জয় করে নেন।তার গাওয়া ‘পাগলপন’ গানটাও দর্শক শ্রোতাদের মন জয় করে নেয়।’পাগলপন’-এর কোরিওগ্রাফি করেছেন ললিপপ।মালবিকার প্রথম মিউজিক ভিডিও ছিল ‘দিলবর’ ।তারপর তিনি পারফর্ম করেন ‘প্রিটি গার্ল’-এ।গানটি গেয়েছিলেন কণিকা কাপুর।ইক্কা গেয়েছিলেন গানের র‍্যাপ অংশটি।গানটি লিখেছেন সাবির আহমেদ।পরিচালনা সাবিনা খানের।মিউজিক ভিডিয়োটি ঝড় তুলেছিল মুক্তির পরেই।এরপর থেকেই তিনি বলিউডের ‘প্রিটি গার্ল’।
তারপর তিনি তেলেগু মিউজিক ভিডিয়োতে কাজ করেন বিজয় দেবারাকোন্ডার সঙ্গে।গানটি গেয়েছিলেন চিন্ময় শ্রীপদা।

বলিউড সিনেমায় খুব শীঘ্রই ডেবিউ করতে চলেছেন মালবিকা।ছবির নাম ‘সুবিধা শুল্ক’।ছবির পরিচালনা করবেন ‘প্রিটি গার্ল’-এর ডিরেক্টর সাবিনা খান।অভিনেত্রী জানালেন,”কথা চলছে আমার বিপরীতে রাজকুমার রাও অভিনয় করার।”পাশাপাশি একটা হিন্দি ওয়েব সিরিজে কাজ করার কথা চলছে।অভিনয়ের পাশাপাশি অভিনেত্রী ‘স্কাইক্রিউ বাই মালবিকা’ নামে ই-কমার্শিয়াল ‘ক্লোদিং লাইন’ চালু করেছেন অভিনেত্রী।অভিনেত্রীর ‘ক্লোদিং লাইন’এর বিশেষত্ব হল একজনের জন্য বিশেষ ডিজাইন এবং সাইজের একটিই পোশাক পাওয়া যাবে এখানে।দ্বিতীয় কেউ ওই একই পোশাক কিনতে পারবেন না।

 

কিন্তু আর কি বাংলা ছবিতে দেখা যাবে না?অভিনেত্রীর উত্তরে জানালেন,”অনেকে ভাবে আমি হয়তো আর বাংলা ছবি করবো না!একদম ভুল।ভালো চিত্রনাট্য পেলে আবার বাংলা ছবি করতে চাই।”

 


মালবিকার প্রেম ট্রেম নিয়ে কিছু কথাই শোনা যায় না!অভিনেত্রী হেসে জানালেন,”আসলে আমি খুব বোরিং।বাড়ির লোক তো বলে এবার একটু গুজবে নাম দে।প্রপোজাল অনেক আসে তবে এখনও মনের মতো মানুষ পাইনি।যাকে প্রেম করবো তাকেই বিয়ে করবো।এখন আমি কেরিয়ার নিয়ে ব্যস্ত।”

অভিনেত্রীর দিদি মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মেগা ধারাবাহিকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।মালবিকার হাত ধরেই দিদি মল্লিকার অভিনয় জগতে প্রবেশ।বাবা রেলে চাকুরী করতেন তবে শখে নাটক করতেন।তাই বেলুড় হাই স্কুল থেকে স্কুলিং-এর পর ,মনিন্দ্র চন্দ্র কলেজ থেকে বি.কম. অনার্স কমপ্লিট করার পর বেহালা সরশুনা কলেজ থেকে ল পাস করার পর
মালবিকা যখন অভিনয়কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন বাড়ির প্রত্যেকেই সাপোর্ট করেছিলেন।
মালবিকা চান ভালো বিভিন্ন ধরণের চরিত্রে অভিনয় করে অভিনেত্রী হিসেবে সকলের মনে থেকে যেতে।

সাক্ষাৎকার:রামিজ আলি আহমেদ
ছবি:বাবান মুখার্জী
রূপসজ্জা:বাবান ইসলাম