আইপিআরএস সর্বাত্মক সমর্থন করছে মিউজিক মেকারদের এর ‘লার্ন অ্যান্ড আর্ন’ ক্যাম্পেনের মধ্যে দিয়ে

 

আইপিআরএস সম্প্রতি এর নলেজ ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত করেছে কলকাতায় এর বর্ষব্যাপী প্যান-ইন্ডিয়া উদ্যোগের অংশ রূপে। এই সেশনের লক্ষ্য ছিল গীতিকার, কম্পোজার ও পাবলিশারদের শিক্ষিত ও সবল করা সংগীতস্বত্ব সংক্রান্ত প্রসঙ্গ ও মিউজিক মেকারদের কেরিয়ার গঠনের সর্বশেষ প্রবণতা সম্পর্কে।

দেবজ্যোতি মিশ্র, সাতরূপা সান্যাল, দেবজিৎ রায়, রাজকুমার রায় সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন রাকেশ নিগম, এগজিকিউটিভ টিম, অঞ্চলের প্রধান সদস্যরা ও বোর্ড অব ডিরেক্টররা।

কলকাতা, 7 জুন 2022 : ইন্ডিয়ান পারফর্মিং রাইট সোসাইটি লিমিটেড (“IPRS”) সর্বদা এর সদস্যদের কল্যাণ সম্পর্কে চিন্তিত এবং 1969-এ এর সূচনা থেকে কম্পোজার, গীতিকার ও পাবলিশার্সের স্বত্ব রক্ষা করে আসছে। প্রতিভাবান ক্রিয়েটরদের তাদের স্বত্ব ও সুযোগ সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবের ফলে পীড়িত হওয়া দেখাটা সত্যিই অস্বস্তিকর এবং এই পরিস্থিতি সঠিক করতে সংশোধনমূলক প্রতিকারের প্রতি তাদের চিন্তাভাবনা জোগায় আইপিআরএস।

 

 

একটি যৌক্তিক কপিরাইট সোসাইটি হিসেবে আইপিআরএস এর সদস্যরা মহামারি চলাকালীন কতটা আর্থিক দুর্বিপাকের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন সে নিয়ে সচেতন ছিল। এইসঙ্গে এই সোসাইটি পর্যবেক্ষণ করেছে এর সদস্যদের বহু সংশয় ও অনুসন্ধান এই দ্রুত রূপান্তরশীল মিউজিক ল্যান্ডস্কেপে। এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতেই, একটি উদ্যোগ চালু করা কথা ভাবা হয়েছে এর সদস্যদের তথ্যাভিজ্ঞ, শিক্ষিত ও সবল করতে। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সদস্যদের কাছে পৌঁছনো হল আইপিআরএস-এর প্রধান উদ্দেশ্য।

এই অভিমুখে যাত্রা শুরু করে, আইপিআরএস স্থির করেছিল এর সদস্যদের জন্য একগুচ্ছ ওয়ার্কশপ চালু করবে। এসব প্যান-ইন্ডিয়া ওয়ার্কশপ হবে আইপিআরএস সদস্যদের চোখ-খোলার জন্য দুর্দান্ত বিষয়, যা তাদের সৃজনশীল যাত্রা ও কেরিয়ারে সুবিধা দেবে। এই নলেজ ওয়ার্সশপ যার নাম ‘লার্ন অ্যান্ড আর্ন’ সফলভাবে শুরু হয়েছে কলকাতায়।

এই ওয়ার্কশপ চেন্নাই ও হায়দরাবাদের মতো মিউজিক ক্রেজি শহরের অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে এরকম দুর্দান্ত ‘লার্ন অ্যান্ড আর্ন’ ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল মে মাসের প্রথমদিকে। শিল্পকলার অন্যান্য ফর্ম যেমন সাহিত্য, নাটকের পাশাপাশি কলকাতার রয়েছে উজ্জ্বল মিউজিক্যাল লিগ্যাসি, এজন্য কলকাতার মুকুটে যুক্ত হয়েছে ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানীর রঙিন পালক। বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক আইকন যেমন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সত্যজিৎ রায়ের মতো আইকনিক চরিত্র এই ‘সিটি অব জয়’-এর অসাধারণ আবেদনে অন্য মাত্রা যুক্ত করেছেন। যেমন প্রত্যাশিত, বাংলার ঋদ্ধ মিউজিক্যাল ঐতিহ্য একত্র হয়েছিল ক্লাসিক্যাল, ফোক, বাংলা রক মিউজিক প্রভৃতি জঁরের কয়েকজন সবচেয়ে শক্তিশালী মিউজিক্যাল ক্রিয়েটরের সৃষ্টি শুনতে এবং এঁদের সঙ্গে ছিলেন জঁর-নির্ধারিত স্বাধীন শিল্পীরা – যাঁরা এই গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টের জন্য এসেছিলেন। মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির ক্রেমে ডে লা ক্রেমে শৈলী, বিশেষ করে বাংলা থেকে, যার অন্তর্ভুক্ত টপ-লাইন কম্পোজার, গীতিকার, পাবলিশার এবং আইপিআরএস-এর সব প্রখ্যাত সদস্যরা এই সাক্ষাৎকে করে তুলেছিল আরও তাৎপর্যপূর্ণ।

 

ওয়ার্কশপের আলোচনার মূল বিষয়ের কেন্দ্রে ছিল মিউজিক ও এই সংক্রান্ত ক্ষেত্রে কপিরাইট যেমন লাইসেন্সিং, উদিত প্রবণতা এবং ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, এবং ক্রিয়েটরদের স্বত্ব, অধিকার ও তাদের সঠিক বকেয়া সম্পর্কে আইপিআরএস-এর ভূমিকা।

এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে গায়ক, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক অনুপম রায় বলেছেন, ‘বাংলার সংগীত অত্যন্ত বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যে ভরা। বিভিন্ন জঁর ও অঞ্চল থেকে মিউজিক ক্রিয়েটররা বহুদিন ধরেই বাংলা সংগীতে বিশাল বৈচিত্র্য ও অভিজ্ঞতার জোগান দিয়েছেন। যদিও দুর্ভাগ্যবশত অধিকাংশ গীতিকার, কম্পোজাররা তাঁদের স্বত্ব এবং মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে অসচেতন, যা তাঁদের সৃজনশীলতায় ইন্ধন জোগায়।

‘আইপিআরএস দ্বারা প্রবর্তিত লার্ন অ্যান্ড আর্ন ক্যাম্পেন হল ক্রিয়েটর ও মিউজিক পাবলিশারদের স্বত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির একটি দুর্দান্ত উদ্যোগ। ভারতে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে জড়িত মিউজিশিয়ানদের কপিরাইট সোসাইটির সুবিধা ও ভূমিকা সম্পর্কে জানা জরুরি এবং কপিরাইট আইনের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন হওয়া প্রয়োজনীয়। অজ্ঞানতা আর কোনো অজুহাত হতে পারে না, আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আইপিআর এর সদস্যদের জন্য নলেজ ওয়ার্কশপ আয়োজন করেছে তাদের নৈপুণ্য ও উৎকর্ষ প্রসারে।’

ক্যাম্পেনের প্রশংসা করে প্রখ্যাত গীতিকার ময়ূর পুরী যোগ করেছেন, ‘আইপিআরএস হল মিউজিক ক্রিয়েটর সম্প্রদায়ের সবচেয়ে উচ্চ ও গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর। আজ, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি দিন কে দিন আরও আরও বিকেন্দ্রীকৃত হচ্ছে প্রতিদিন। যেমন আমাদের দূরদর্শী চেয়ারপার্সন জাভেদ আখতার সাব বলেছিলেন, আইপিআরএস-এ আমাদের সবার জন্য আমাদের বৈচিত্র্যময়তা ও ইনক্লুশন স্থির করা খুব জরুরি। ‘লার্ন অ্যান্ড আর্ন’ হল পূর্ণ-দিনের একটি সিরিজ, বহু-শহরের ওয়ার্কশপ ডিজাইন করা হয়েছে আমাদের সদস্যদের সবল করতে শুধু বেঁচে থাকতে নয়, বরং এই ক্রিয়েটার সম্প্রদায়ে অংশ নিতে। এই প্রথম এই মাপের এবং ব্যাপক কনটেন্টের মহাকাব্যিক প্রচেষ্টার পরিকল্পনা করা হয়েছে সম্প্রদায়কে একত্র করতে, এবং আমরা আশা করি এর থেকে হাজার হাজার মিউজিক ক্রিয়েটর লাভবান হবেন।’

আইপিআরএস সিইও রাকেশ নিগম সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘ভারতীয় মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি ডায়নামিকভাবে বিবর্তিত হচ্ছে এবং এটা কয়েকজন সবচেয়ে প্রখ্যাত গীতিকার ও কম্পোজারের ধাত্রীগৃহ। আঞ্চলিক সংগীতে এই বিকাশে এটা ইন্ধন জোগায়, কেননা এটা সীমানা পেরিয়ে যায় এবং সৃষ্টি করে নতুন বেঞ্চমার্ক এর ক্রমবর্ধিত জনপ্রিয়তায়। বাংলা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি, একগুচ্ছ প্রতিভাবান ক্রিয়েটরদের নিয়ে এই নতুন আবিষ্কৃত সাফল্যে এক প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
‘যখন এই ইন্ডাস্ট্রি নতুন উচ্চতা স্থাপন করছে এর বাধ্যতামূলক ফরমানে যে গীতিকার ও কম্পোজারদের তাঁদের অধিকার সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন হতে হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল মিউজিক কপিরাইট ও লাইসেন্সিঙে সচেতনতা গড়ে তোলা আর পাশাপাশি জ্ঞান ও নো-হাউ-এর মাধ্যমে আইপিআরএস সদস্যদের নৈপুণ্য বিকাশে সাহায্য করা। আইপিআরএস-এ আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হবে আমাদের সদস্যদের জন্য আরও সুযোগ সৃিষ্ট করা এবং একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেমের দিকে পথ তৈরি করা যা তাঁদের এবং ভারতীয় মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিকে নিয়ে যাবে নতুন উচ্চতায়।’

এরপর শ্রী নিগম আরও বলেন, ‘21-22 অর্থবর্ষ ছিল আইপিআরএস-এর রোজগারের ইতিহাসে ওয়াটারশেড ঘটনা, বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় 85%, 20-21 অর্থবর্ষের 169.8 কোটি টাকা থেকে 21-22 অর্থবর্ষে হয়েছে 310+ কোটি টাকা। স্ট্রিমিং ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো 21-22 অর্থবর্ষের মোট আয়ের প্রধান অবদান জুগিয়েছে।

‘এইসঙ্গে এটা ছিল সেই বর্ষ যা দেখেছে রয়াল্টি পে-আউট 200 কোটি টাকার মাত্রা অতিক্রম করেছে কেননা এটা হয়েছে 210 কোটি টাকা পূর্ববর্তী বছরের 183.3 কোটি টাকার তুলনায়। এইসঙ্গে আইপিআরএস এর সদস্যদের জন্য রিলিফ ফান্ডও করেছে। আর্থিকভাবে সহায়তা করেছে 6.2 কোটি টাকা যা বণ্টিত হয়েছে 3900 লেখক সদস্যদের মধ্যে 21-22 অর্থবর্ষ চাকালীন যাতে কোভিড মহামারির কারণে উপার্জনের ক্ষতির প্রভাব কিছুটা উপশম হয়।’