স্বাধীনতা সংগ্রামীর পরিবারের পাশে স্বপ্নসাথী ফাউন্ডেশন

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শাসন-শোষণ থেকে ভারতকে স্বাধীন করতে দীর্ঘ সংগ্রাম চালিয়েছেন বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট জন্ম নেয় স্বাধীন ভারত। আমাদের স্বাধীন করার জন্য অকথ্য অত্যাচার, ত্যাগ স্বীকার করেছেন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা। ১৫ অগস্ট তাঁদের মনে করার ও সম্মান জানানোর দিন। 

স্বপ্নসাথী ফাউন্ডেশন সেই লক্ষ্যেই ১৫ অগস্ট সকালে পতকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের শুরু করে। তারপর তাঁরা চলে যায় দেগঙ্গার বেঁড়াচাপার চারাবাগান এলাকায় স্বাধীনতা সংগ্রামী স্বর্গীয় কৃষ্ণমোহন শীলের বাড়িতে। তিনি ছিলেন নেতাজীর
হাতে গড়া আজাদ হিন্দ বাহিনীর সদস্য। বাহিনীর সদস্যদের চুল কাটার কাজ ছিল তাঁর। স্বাধীনতা যুদ্ধে ইংরেজদের ছোড়া গুলি তাঁর হাতে লাগলে তাঁকে চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য চলে আসেন কলকাতায় এবং বিয়ে করেন মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা লক্ষ্মীকে। ১৯৮৯ সালে অসুস্থ হয়ে পড়লে অর্থাভাবের কারণে চিকিৎসা করাতে না পারায় মৃত্যু হয় কৃষ্ণমোহন শীলের।

বর্তমানে তাঁর মেয়ে অন্যের বাড়িতে গৃহ সহায়িকার কাজ করেন এবং  ছেলে ইলেক্ট্রিক দফতরের ঠিকা সংস্থায় শ্রমিকের কাজ করেন। বৃদ্ধ মা ও দিদিকে দেখাশোনা করেন তিনি। স্বাধীনতা দিবস নিয়ে যখন চারদিকে তোলপাড়, তখন পলিথিনে ঘেড়া একচিলতে ঘরে একবেলা আধপেটা খেয়ে দিন চলে তাদের। টাকার অভাবে মেয়ে সুধারানীর বিয়েও দিতে পারেননি।

স্বপ্নসাথী ফাউন্ডেশন এর তরফ থেকে স্বাধীনতা দিবসের দিন এই সংগ্রামীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য। বৃদ্ধা লক্ষ্মী শীল এসব দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, জড়িয়ে ধরেন সংস্থার সদস্যদের। এসময় সংস্থার তরফ থেকে উপস্থিত ছিলেন সৌরভ, শুভ, সমৃদ্ধি, তিয়াসা, পলাশ, বিক্রম, অভিজিৎ, শর্মী ও সুষ্মিতা। সংস্থার সভাপতি সৌরভ দাস বলেন, “অকথ্য অত্যাচার, অগুণতি ত্যাগ স্বীকার করে আমাদের ঝুলিতে স্বাধীনতা উপহার দিয়েছেন সংগ্রামীরা। আর আজ তাঁদের পরিবারকেই এরকম পরিস্থিতিতে দেখতে হচ্ছে। আমরা তাঁদের সাধ্যমতো সহায়তা করবো, পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালী মানুষ ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে অনুরোধ করবো এরকম পরিবারের পাশে দাড়াতে।”

স্বপ্নসাথী ফাউন্ডেশনের তরফ থেকে এদিন মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার মাহাডেও ৩৬০জন পড়ুয়াদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হয়। কিছুদিনের ভেতর জঙ্গল মহলেও শিক্ষাসামগ্রী সহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিতরনের পরিকল্পনা করেছেন সংস্থার সদস্যরা। ভবিষ্যতে অবৈতনিক বিদ্যালয় তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *