পরিমনী ,পিয়াসা ও মৌ এর পর গ্রেফতার আতংকে পলাতক মডেল, অভিনেত্রী , পরিচালক ও প্রযোজক !

ওপার বাংলার মিডিয়ায় এখন গ্রেফতার আতংক চলছে।তথাকথিত মডেল মৌ , এক সময়ের ওয়ালটন ও এশিয়ান টিভির পরিচালক কাম মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা, আলোচিত নায়িকা পরিমনী গ্রেফতারের পর মিডিয়া সংশিষ্ট অনেকেই গ্রেফতার আতংকে আত্মগোপন করে আছেন ।প্রশাসনের একটি সুত্র দাবি করে মাদক কারবার, মাদক সেবন ও পর্নোগ্রাফি এর অভিযোগে ৫০ জন মিডিয়া সংশ্লিষ্টদের একটি তালিকা তাদের কাছে তৈরি ,যাদের মধ্যে রয়েছে সাইনবোর্ডধারী মডেল, অভিনেতা , অভিনেত্রী , পরিচালক ও প্রযোজক । এর পরই অনেকে ফেসবুক আইডি ডিজাবল ও মোবাইল অফ করে আত্মগোপন করে গেছেন । কারন যে কোন সময় শুরু হতে পারে ধরপাকড় । ইতিমধ্যে পর্নোগ্রাফী ও মাদক আইনে নজরুল রাজ বলে একজন প্রযোজক কাম পরিচালককে আটক করা হয়েছে।

প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে মডেল কাম তথাকথিত নায়িকা শিরীন শিলা, আচঁল , আলিশা, অহনা, মৃদুলা,মৌরী, পার্শা ও নাইলা নাইম সহ অনেকেই তাদের নজরদারিতে রয়েছেন । যারা মিডিয়াতে তেমন কাজ না করেও অল্প সময়ে কোটিপতি হয়ে গেছেন । চলেন দামী গাড়িতে ও থাকেন দামি ফ্লাটে আর ঘুরে বেড়ান দেশ বিদেশে। এ তালিকায় বেশ কজন প্রতিষ্টিত ব্যবসায়ী ও রয়েছেন । পাশাপাশি অন্য একটি সুত্র দাবি করেন তাদের নিয়মিত কোটিপতি ৩০০ এর মতো খদ্দের ও গ্রেফতার আতংকে আত্মগোপনে চলে গেছেন ।

পরীমনির অপরাধ সংগী জিমি ও তথাকথিত মম কাম গডমাদার চয়নিকা চৌধুরী দুজনই রয়েছেন প্রশাসনের নজরদারিতে

ইতিমধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ও পরিমনীর মিডিয়া গড মাদার খ্যাত নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী গ্রেফতার আতংকে সোস্যাল মিডিয়া থেকে উধাও এবং নিজেকে এ বলে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করছেন যে তার সাথে নাকি কাজের বাইরে পরীমনির সাথে কোন সম্পর্ক নাই । অথচ মিডিয়ার সবাই জানে এবং দেখেছেন বোট ক্লাব কান্ডের পুরো মিডিয়া ট্রায়াল হয়েছে চয়নিকার পরামর্শে । পরিমনীকে তিনি মেয়ে ও পরিমনী তাকে মা বলতেন । পরিমনি গ্রেফতার গনেশ পাল্টে গেলো। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একজন মিডিয়া সংশ্লিষ্ট বলেন চয়নিকা চৌধুরী পরিমনীকে অসৎ কাজে ব্যবহার করে নিজে ও পরীমনি দুজনই আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন । পরিমনি গ্রেফতার না হলে তিনি পরীমনিকে আরো ব্যবহার করতেন এবং পরীমনির ফ্লাটের অধিকাংশ প্রাইভেট পার্টিতে এই নারী নির্মমতা উপস্থিত থাকতেন ।

গ্রেফতারের পর পরিমনী

এ দিকে পরীমনির বিভিন্ন অপরাধ কর্মের সহযোগী ডিজাইনার জিমি ও আত্মগোপনে চলে গেছেন । তাকে সাথে নিয়েই বোট ক্লাব কান্ড ঘটান এই নায়িকা । আনন্দদিন ২৫ জুন প্রতিবেদন বলা হয়েছে পরীমনি ও ব্যবসায়ীদের মিডলম্যান হিসেবে কাজ করতেন এই ডিজাইনার কাম ব্রোকার জিমি ।

প্রেস কনফারেন্স এ প্রশাসন থেকে বলা হয়েছে যারা পরীমনির ফ্লাটে পার্টি করতো তারা সবাই নজরদারিতে। ইতিমধ্যে পরীমনি ও রাজের মামলা ডিবি (গোয়েন্দা বিভাগের হাতে) তে চলে গেছে । ডিবি থেকে বলা হয়েছে আরো অনেকে গ্রেফতার হবেন পরীমনি ও রাজ কান্ডে ।

বাংলাদেশ অধিকাংশ মডেল মাদক ও অবৈধ ব্যবসা থেকে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে অপরাধ জগতে জড়িত হয়ে পরেছেন । তাদের হাতে জিম্মি হয়ে আছেন অনেক ব্যবসায়ী ও ধনী পরিবারের বখাটে সন্তানরা। এই সংঘবদ্ধ চক্রকে শেষ করতেই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী বিশেষ অভিযানে নেমেছে। আর তাতেই আতংক ছড়িয়ে পড়েছে মিডিয়া পাড়ায় কারন কে কখন গ্রেফতার হবেন তা প্রশাসন ছাড়া কেউ আন্দাজ ও করতে পারছেন না ।

অন্য একটি সুত্র দাবি করেন , শুধু দেশে নয় প্রবাসেও চলেও এই সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের কাজকর্ম । যে সব বড় বড় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী চাইলেও দেশে কিছু করতে পারেন না তাদেরকে পিয়াসা,মৌ,পরীমনিরা তথাকথিত মডেল দিয়ে মালয়েশিয়া, সিংগাপুর ,দুবাই ও ভারতে পাঠিয়ে বড় অংকের টাকা নিতেন ।এবং মাঝে মাঝে ফ্যাশন শো এর নামে কলকাতার অখ্যাত মডেলদের নিয়ে ব্যবসায়ীদের মনোরঞ্জন করতেন । সেই তালিকায় কলকাতার মডেল কাম তথাকথিত সিনে অভিনেত্রী রয়েছেন, যারা মিডিয়ার জন্য ডিভোরস নিয়ে নিজেদের অবিবাহিত দাবি করেন, দুজনের বাড়িই উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় । তাদের পাসপোর্টে অসংখ্যবার বাংলাদেশী ভিসাও রয়েছে। বর্তমানে সেই সব ব্যবসায়ীরাও আতংকে আছেন ।

সবশেষ সংবাদ : এ সংবাদ লিখার সময় বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর পান্থপথ সিগন্যালে চয়নিকা চৌধুরীর গাড়িটি ঘিরে ধরে পুলিশ। পরে তাকে সেখান থেকে আটক করা হয়।